উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন ।। PART-1 কর্মযোগ।। বড় প্রশ্ন।। Higher secondary suggestions

উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত সাজেশন ।। কর্মযোগ।। বড় প্রশ্ন।। Higher secondary suggestions 

উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত।। কর্মযোগ।। বড় প্রশ্ন।। Higher secondary suggestions

কর্মযোগ 

 ৫)  "यद् यदाचरति श्रेष्ठस्तत्तदेवेतरो जनः' উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ-  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার তৃতীয় অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের কাছে কর্মযোগের তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। আলোচ্য শ্লোকাংশে তিনি শ্রেষ্ঠ জনের কর্মের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে চেয়েছেন। উদ্ধৃত বাক্যটির অর্থ হল—শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যা যা আচরণ করেন সাধারণ মানুষ তাই অনুসরণ করে।

          নিষ্কাম কর্মের অনুষ্ঠান করেই পরম পুরুষকে লাভ করা যায়। জনহিতকর কর্মের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র অহংভাব ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত হয়ে অনেক ঊর্ধ্বে ওঠা যায়। এইভাবে যে মানুষটি এমনভাবে উচ্চে উঠেছে গীতার মতে তিনিই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। এই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কর্ম করুন বা না করুন তাতে তাঁর নিজের কিছু এসে যায় না। কিন্তু তাঁর কর্মের অন্য প্রয়োজন আছে। আলোচ্য শ্লোকে গীতা সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। লোকে শ্রেষ্ঠ মানুষটিকে যেরকম আচরণ করতে দেখে সেইরকম অনুকরণ করে। অতএব তাঁর পক্ষে এমন দৃষ্টান্ত দেখানো উচিত নয় যার অনুসরণ করে লোকসমাজের অনিষ্ট হতে পারে। সাধারণ লোক কর্ম না করলে সমাজ ভেঙে পড়বে, অতএব শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির নিজের কোনো প্রয়োজন না থাকলেও তিনি লোক-সমাজকে সৎ পথে প্রবৃত্ত রাখবার জন্য কর্ম করবেন। তাঁর দৃষ্টান্ত, তাঁর উপদেশ অনুসরণ
করেই অন্য সাধারণ মানুষ শ্রেয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, শ্রেষ্ঠ যে লৌকিক বা বৈদিক বিধানকে পামাণিক বলে স্বীকার করেন সাধারন লোক তাকেই শ্রেয় বলে তদনুসারে কর্ম করবে।

৬) स्वधर्मे निधनं श्रेयः परथर्मो भयावह: "তাৎপর্য বর্ণনা করো।

উত্তরঃ-  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার তৃতীয় অধ্যায়ের নাম কর্মযোগ। এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্মযোগ সম্বন্ধে বহুমূল্য উপদেশগুলি দিয়েছেন। আলোচ্য শ্লোকাংশটিতে বলা হয়েছে, নিজের ধর্মের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে যদি মৃত্যুও হয় তাও ভালো, তবু পরধর্ম বিপজ্জনকy

          অর্জুন যুদ্ধ না করে যদি যজন, অধ্যাপনা, সঙ্গীত, শিল্প, প্রভৃতি কর্মে জীবন অতিবাহিত করেন তাহলে তিনি তো কর্মযোগের মধ্যেই থাকবেন। সুতরাং এখানে তো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু অর্জুন এইভাবে যুদ্ধ বর্জন করলে শ্রীকৃয় ধর্মসংস্থাপন করবেন কীভাবে? তাই অর্জুনকে বললেন স্বধর্ম অর্থাৎ নিজের ধর্ম দোয়যুক্ত হলেও তা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম থেকে শতগুণে ভালো। আর, নিজের ধর্মের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে যদি, মৃত্যুও হয় তাও ভালো, তবু পরধর্ম বিপজ্জনক। স্বধর্মে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থেকে মৃত্যুকে বরণ করলেও তা গৌরবজনক। শ্রীকৃয় জানেন, পরের ধর্ম প্রথমেই মনকে দুর্বল করে দেয়, কারণ এই দমটি 'পরের' ) তার সাথে একাত্মতা অসম্ভব। পরের ধর্ম পালন করতে গিয়ে পদে পদে ভয় উৎপন্ন হয়। তার ফলে ব্যক্তি মানুষটির স্বাভাবিক বিকাশ বিপর্যস্ত হয়। পরধর্ম পালন করা মানে কৃত্রিম পথকে বরণ করা। তাই পরধর্ম পালন ব্যক্তি মানুষের জীবনে কখনও সার্থক হতে পারে না। সুতরাং অর্জুন যেন তাঁর স্বধর্ম অর্থাৎ ক্ষারধর্মকে ত্যাগ করে পরধর্ম গ্রহণ না করেন। যদি করেন, তাহলে তিনি জীবনে গৌরবের পরিবর্তে  বিপদের মধ্যে নিমজ্জিত হবেন । 

৭) পাঠ্যাংশে কাকে মিথ্যাচারী বলা হয়েছে। তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কে? 

উত্তরঃ-  যে ব্যক্তি বাহ্যিক ইন্দ্রিয় নিগ্রহ করে মনে মনে ইন্দ্রিয়ের উপভোগ্য বিষয়গুলির চিন্তা করতে থাকে সে মিথ্যাচারী। মুক্তিলাভের জন্য কর্মত্যাগ আবশ্যক। তবে সাংখ্য দার্শনিকগণ বলেন যে এই কর্মত্যাগ মানে সব কর্ম ত্যাগ করে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকা। কিন্তু এ ধারণা ভ্রান্ত। কারণ, বাহ্য ইন্দ্রিয়গুলিকে সংযত করে হাত পা গুটিয়ে থাকলেই তাকে কর্মত্যাগ বলা চলে না। এই রকম কর্মত্যাগ করেও মনে মনে বস্তুর আকাঙ্ক্ষা চলতে থাকে। যে এমন করে সে হল মিথ্যাচারী।

  যিনি বাহ্য ইন্দ্রিয়গুলিকে মনের দ্বারা সংযত করে নিরাসক্ত হয়ে কমেজিয়ের দ্বারা কর্ম করেন তিনি মোেষ্ঠ। এর ব্যাখ্যা এইভাবে করা হচ্ছে কর্ম করলেই তিনি কর্মবশনে পড়েন তা নয়। কর্মেন্দ্রিয়গুলি যাতে অসংযত হয়ে যথেচ্ছভাবে আচরণ করতে না পারে তার জন্য কর্মেন্দ্রিয়গুলির নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। শুভাশুভ পাপপুণ্য, কর্তব্য-অকর্তব্য বিবেচনা করে মন কর্মেন্দ্রিয়গুলিকে পরিচালনা করবে। আর, তার ফলেই সেই কর্মযোগী কর্ম করলেও কর্মবন্ধনের দ্বারা আবদ্ধ হন না। সেই জন্যই কর্ম পরিত্যাগকারী অপেক্ষা নিষ্কাম কর্মযোগী শ্রেষ্ঠ।

৮) প্রসঙ্গ উল্লেখপূর্বক শ্লোকটি ব্যাখ্যা করো :

नहि कश्चित् क्षणमपि जातु तिष्ठत्यकर्मकृत् । 

कार्यते ह्यवशः कर्म सर्वः प्रकृतिजैर्गुणैः ॥”

উত্তরঃ-  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার কর্মযোগ নামক তৃতীয় অধ্যায়ে এই শ্লোকটি বলা হয়েছে। এখানে শ্রীকৃষ্ণ সাংখ্য দার্শনিকগণের নৈষ্কর্ম সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণার নিরসন করেছেন।

      সাংখ্য দার্শনিকগণ বলেছেন, সম্পূর্ণভাবে কর্মত্যাগই হল মোক্ষমাণ। কিন্তু এই চিন্তা যথার্থ নয়। সম্পূর্ণভাবে কর্মত্যাগ মোক্ষমাণ তো হতেই পারে না, তা ছাড়া, কোনো লোকের পক্ষে মুহূর্তের জন্যও কর্মত্যাগ করে নিশ্চলভাবে বসে থাকাও সম্ভব নয়। কারও কর্মত্যাগের ইচ্ছা বা সংকল্প থাকলেও প্রকৃতি তাকে কর্ম করতে বাধ্য করবে। তাই দেহধারী মানুষ মুহূর্তের জন্যও কর্ম না করে থাকতে পারে না। বেঁচে থাকতে হলে কর্ম করতেই হবে, নতুবা শরীরযাত্রা চলবে না। কেউ যদি শরীরযাত্রা চালাতে না চায়, তাহলে সে ইট, কাঠ, পাথরের মতো অচল হয়ে পড়ে থাকতে পারে। তাহলেও তার মনের ক্রিয়া চলবেই। কর্ম বলতে শুধু দেহের ক্রিয়াই বোঝায় না, মানসিক ক্রিয়াকলাপও বোঝায়। তাই প্রকৃতির গুণ—কামনা, বাসনা, অহংকার, হিংসা, দ্বেষ প্রভৃতি মানসিক ক্রিয়া বন্ধ করে মানুষ থাকতে পারবে না। সুতরাং গুণের ওপরে যে পরম পুরুষ আছেন, তাঁর উদ্দেশ্যে যজ্ঞরূপে সব কর্ম ও কর্মফল অর্পণ করতে হবে। এইভাবেই প্রকৃতির বন্ধন থেকে মুক্তিলাভ করা সম্ভব।

আরও দেখুন 👇👇

১) পাঠ্যাংশ অনুসরণে গীতার কর্মযোগের তত্ত্বটি সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করো।

Click here 

২) কেন কর্মত্যাগের দ্বারা নৈষ্কর্ম্যসিদ্ধি হয় না তা নিজের ভাষায় বুঝিয়ে দাও।

Click here

৩) 'মিথ্যাচার' কাকে বলা হয় গীতার কর্মযোগ ব্যাখ্যা করে তা বুঝিয়ে দাও

Click here

৪) "तस्मादसक्तः सततं कार्य कर्म समाचर' উক্তির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও। 

Click here 



কর্মযোগ সট প্রশ্ন- Click here 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.