Ads

অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিগ পুস তত্ত্ব।। পদ্ধতি।। বৈশিষ্ট্য ।। সমালোচনা।। Rural Development

  অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিগ পুস তত্ত্ব।। পদ্ধতি।। বৈশিষ্ট্য ।। সমালোচনা।। Rural Development

অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিগ পুস তত্ত্ব।। পদ্ধতি।। বৈশিষ্ট্য ।। সমালোচনা।। Rural Development

🌼Big Push Theory of Economic Development🌼

🌸অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিগ পুস তত্ত্ব (Big Push Theory of Economic Development):🌸


P. N. Rosenstein Rodan প্রথম ১৯৪৩ সালে 'Big Push' তত্ত্বটি প্রকাশ করেন। এই তত্ত্বটি ভারসাম্যের উন্নয়নের ধারণার (Balanced Growth)-এর উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। এই তত্ত্বের জটিলতাটি হল উন্নয়নের বাধাগুলি ভয়াবহ এবং বিস্তৃত। প্রকৃতিগতভাবে বিকাশ প্রক্রিয়া কোনও মসৃণ এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া নয়। উন্নয়ন প্রক্রিয়া কতগুলি লাফ বা Jumps-এর সমষ্টি। অর্থনৈতিক উন্নয়নও (Economic Growth)-এর উপর প্রভাব সৃষ্টিকারী নির্ণায়কগুলি এক সাথে কাজ করে থাকে তবে তাদের মধ্যে কতকগুলি বিরতি (discontinuities) লক্ষ্য করা যায়।


তাই যে কোনো অর্থনৈতিক উন্নয়নের নীতিগুলির ধীরতার অবস্থা শেষে হতাশার জন্ম দেয়। এই কারণে 'Big Push' বা 'বিরাট ঠেলা'-এর প্রয়োজন যা কিনা এই ভেঙে পড়া অর্থনীতির প্রাথমিক জড়তাকে সজোরে ধাক্কা দেবে। এই “Big Push'ই পারবে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে। যেমন উৎপাদন ও আয় দুই দিক দিয়েই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায়।


রোজেনস্টেইনের মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রান্তিক বৃদ্ধিগুলি যেভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে তাতে মনে হয় যেন মরুভূমিতে কিছু জলকণা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কেবল বিশাল পরিমাণের বিনিয়োগই কিছু পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

গ্রামীণ উন্নয়ন

🌸মূল তত্ত্ব🌸

মূল তত্ত্ব: বিগ পুস তত্ত্বের দ্বারা কোনো একটি উন্নয়নশীল দেে উন্নয়নের মূল সমস্যা কি তা সহজেই জানা সম্ভব। অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশটি। উন্নয়নের জন্য কিরূপ নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন এই তত্ত্বের মাধ্যমে জানা যায়। এই তত্ত্বটি সম্পূর্ণভাবে কোনও দেশের বাহ্যিক অর্থনীতির (Externa Economics) উপর নির্ভরশীল।


অনুন্নত দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মূলধনের অভাব লক্ষ্য কর যায়। অনুন্নত দেশে আয় কম, সঞ্চয় কম, সঞ্চয় (Savings) কম হতে বিনিয়োগ (Investment) কম হয় আর বিনিয়োগ কম হওয়ার জন্য উৎপাদন (Production) কম হয় এবং আয় (Income) কম হয়। অর্থাৎ অনুন্নত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে ছিল সেখানেই ঘুরে ফিরে থেকে যায়। আর এই কারণেই অনুন্নত দেশগুলি উন্নত দেশে রূপান্তরিত হাতে পারে না।


অনুন্নত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অস্থিতিশীল। অর্থাৎ একবছর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটলে পরের বছর মন্দার সৃষ্টি। অনুন্নত দেশগুলি তাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ধরে রাখতে বা স্থিতিশীল রাখতে পারে না।


অনুন্নত দেশগুলিতে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন না হলে উন্নয়ন মাঝ পথেই থেমে যাবে। একটি উদাহরণের সাহায্যে বলা যেতে পারে একটি এরোপ্লেনের উত্তরণের (take off) করার সময় যতটা ভূপৃষ্ঠীয় গতিবেগ (Ground Speed) প্রয়োজন যদি ততটা গতিবেগ না থাকে তাহলে বিমানটি। উত্তরণ (Take Off) করতে পারবে না। ঠিক তেমনি যে উৎপাদনের (Production)-এর জন্য যতটা বিনিয়োগ (Investment) প্রয়োজন তা না থাকলে উৎপাদন হবে না।


বহিরাগত অর্থনীতির ধারণা: রোজেনস্টেইন রোডান 'Big Push' তত্ত্বে উন্নয়নশীল দেশের (Developing country) বহিরাগত অর্থনীতির (External Economies)-এর কথা বলেছেন। অর্থাৎ দেশে শিল্পায়নের জন্য এমন বহিরাগত পরিকাঠামো তৈরি করা হবে যাতে এক ধরনের বহু শিল্প গড়ে উঠতে পারে। সমগোত্রীয় বহু শিল্পের জন্য উন্নত পরিকাঠামো শিল্পের উৎপাদন মূল্য

গ্রামীণ উন্নয়ন


হ্রাস করবে ও উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। রোজেনস্টেইনের মতে অনুন্নত দেশগুলিতে তিনটি অবিভাজ্যতা রয়েছে। এই অবিভাজ্যতাগুলি বহিরাগত অর্থনীতির জন্য দায়ী এবং এইভাবে একটি বড় ধাক্কার প্রয়োজনকে ন্যায্যতা দেয়। এগুলি নিম্নরূপ—


১। উৎপাদনের অবিভাজ্যতা (Indivisibilities of Production):

২। চাহিদার অবিভাজ্যতা (Indivisibilities of Demand)

৩। সঞ্চয় সরবরাহের অবিভাজ্যতা (Indivisibilities of Supply of Savings)


১। উৎপাদনের অবিভাজ্যতা (Indivisibilities of Production): যে কোনো উৎপাদন প্রক্রিয়ার অবিভাজ্যতা তিনটি ধাপে হয়ে থাকে, যথা inputs, processes এবং outputst উন্নয়নশীল দেশে সরাসরি উৎপাদনশীল বিনিয়োগের ক্রিয়াকলাপের জন্য দেশের সামাজিক মূলধন (Social Overhead Capital)-এ বিনিয়োগ প্রয়োজন। দেশে ফার্মগুলিতে বিনিয়োগের পূর্বে মৌলিক শিল্পগুলিতে (বিদ্যুৎ, পরিবহণ, যোগাযোগ-এর ক্ষেত্রে) সামাজিক মূলধনের বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা বহিরাগত অর্থনীতির (External Economics) বিষয়টিকে মজবুত করবে ও দীর্ঘমেয়াদে শিল্পে উৎপাদন চলবে। যেমন কোনও একটি শিল্প এলাকাতে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, জল, পরিবহণ ব্যবস্থা ভাল হলে তবেই শিল্পকর্ম সুষ্ঠুভাবে চালানো যাবে। এই বিনিয়োগগুলি অন্য দেশ থেকে আমদানি করা যায় না। তাই দেশের নিজস্ব অর্থ থেকে সামাজিক মূলধনের জন্য প্রচুর পরিমাণ প্রাথমিক বিনিয়োগ করতে হয়। এই সামাজিক মূলধনের বিনিয়োগ-এর কিছু অবিভাজ্যতা রয়েছে-


ক) এই বিনিয়োগ এতটাই বেশি যে (মোট বিনিয়োগের ৩0-80%), পরবর্তীকালে অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগের ঘাটতি দেখা দেয়।

খ) যেহেতু উন্নয়নশীল দেশে এই ব্যবস্থা দেখা যায়, তাই পরিকাঠামোগত সরঞ্জাম-এর মান নিম্ন হতে পারে, যা পরবর্তীকালে শিল্প ব্যবস্থাকে অসুবিধায় ফেলতে পারে।

গ্রামীণ উন্নয়ন।


গ) সামাজিক মূলধন (Social overhead capital)-এর বিনিয়োে প্রত্যাবর্তন অনেক সময়সাপেক্ষ। সমাজের উন্নয়নের খাতে বিনিয়োগকৃত অ দীর্ঘকালীন ফেরত না আসা অর্থনীতিকে দুর্বল করে, যা 'বিগপুস'-এর অন্তরায়।


ঘ) শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি শিল্পে একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম না বিনিয়োগ হওয়া প্রয়োজন, যা ছাড়া প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে এত পড়বে না।


ঙ) 'বিগপুস' পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হল প্রযুক্তিগতভাবে পরস্পরের উপর নির্ভরশ শিল্পের একসাথে স্থাপনের মাধ্যমে একটি ফার্ম তৈরি করা যাতে একলাছ বাহ্যিক অর্থনীতির সুবিধা ভোগ করা যায়। ফার্ম ভিত্তিক শিল্পের সমাবে দেশের অর্থনৈতিক স্কেলের মাত্রাকে বাড়াতে সাহায্য করে। আর কোনো এবং নির্দিষ্ট শিল্প সফলতা পেলে তার চারি দিকে বহু ছোট ছোট শিল্পের ব্যপ্তি ঘটছে শুরু করে।


চ) অর্থাৎ উৎপাদন পদ্ধতিকে দীর্ঘমেয়াদী পরিচালনা করার বিষয়টিই উৎপাদনের অবিভাজ্যতা। উৎপাদন স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী না করলে শিল্পব্যবস্থ আটকে যাবে ও 'বিগপুস'-এর ধারণা যথার্থতা হারাবে।


২। চাহিদার অবিভাজ্যতা (Indivisibilities of Demand): উন্নয়নশীল দেশে মাথাপিছু আয় নিম্ন (Low Per Capita Income) থাকে তাই ক্রয় ক্ষমতাও কম (purchasing capacity) হয়। তাই এই সমস্ত দেশে দ্রব্যের বাজারও ছোট হয়। আবদ্ধ অর্থনীতিতে (Closed Economy) সাধারণত কোনো একটি আধুনিক শিল্পের বাজার তৈরি হয় না এবং ঐ শিল্প বৈদেশিক বাজারে তেমন কোনো স্থান দখল করতে পারে না। বড় শিল্পের সাথে বহু শিল্পের গঠন হওয়া প্রয়োজন যাতে কর্মসংস্থান হয়, সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ে এবং বাজারে দ্রব্যের চাহিদা তৈরি হয়। তখন সেই শিল্পে কম শ্রমিকরা অন্য শিল্পে কাজ-এর জন্য যায় এবং এর ফলে তাদের আয় বৃদ্ধি পায় তাই বিভিন্ন উৎপাদিত দ্রব্যের বাজারও বৃদ্ধি পায়।


রোজেনস্টেইন এক্ষেত্রে একটি সহজ উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি একটি জুতো শিল্পের (Shoe Industry)-র উদাহরণ দিয়েছেন। ধরা যাক, একটি দেশ জুতো শিল্পতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে তার ফলে বহু শ্রমিক ঐ শিল্পে কাজে যায়, রোজগার করে। রোজগারকৃত অর্থে তারা শুধু মাত্র জুতো কিনবে, এমনটা নয়, তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনবে। ঐ সকল দ্রব্যের বাজারে চাহিদা বেশি থাকার জন্য তাদের দামও বেশি হবে। এই ভাবে মানুষ যে অর্থ উপার্জন করছে তা বাজারে চলে যায়। ঐ দেশ যদি ঐ সকল দ্রব্য উৎপাদনের শিল্প গড়ে তোলে তাহলে দ্রব্যের দাম কমবে, মানুষের কাছে অর্থ সঞ্চয় হবে ও সামগ্রিকভাবে শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হয়।


কিন্তু উন্মুক্ত অর্থনীতি (Open Economy) তে উৎপন্ন দ্রব্যাদি বিদেশে রপ্তানী হয়। এই সময় যদি উৎপন্ন দ্রব্যাদির বিকল্প দ্রব্য থেকে থাকে তাহলে সেই দ্রব্যাদির বাজার নেমে যায় এবং তখনই 'Big Push'-এর সবথেকে বেশি প্রয়োজন দেখা দেয়।


৩। সঞ্চয় সরবরাহের অবিভাজ্যতা (Indivisibilities of Supply of Savings)ঃ উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কম হওয়ার জন্য মানুষের রোজগার কম হয় এবং সঞ্চয়ও কম হয়। আর সঞ্চয় কম হলে বিনিয়োগও কম হয়। যেটি অনুন্নত দেশের সমস্যা। এই জন্য 'বিগপুস'-এর প্রয়োজন আছে বলে মনে করেছেন রোজেনস্টেইন রোডান। দেশে উচ্চস্তরীয় বিনিয়োগের জন্য উচ্চস্তরীয় সঞ্চয় প্রয়োজন। উন্নয়নশীল দেশগুলি যদি আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সঞ্চয় করে তাহলে বিদেশি বিনিয়োগের উপর তাকে নির্ভরশীল থাকতে হবে না। দেশের আভ্যন্তরীণ মূলধনের যোগান যত বাড়বে, দেশ ততটাই বিভিন্ন শিল্পে বারংবার বিনিয়োগ করতে পারবে।


রোজেনস্টেইনের তত্ত্বটি বহিরাগত অর্থনীতির (external economy)-র উপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন। এছাড়া এই তত্ত্বটি উন্নয়নমূলক অর্থনীতি (development economics) এবং কল্যাণমূলক অর্থনীতির (welfare economics)-এর একটি ধারণাকে প্রকাশ করে। এই তত্ত্বে 'বিগপুস' বলতে প্রচুর বিনিয়োগ, প্রচুর চাহিদা, উৎপাদন ও সঞ্চয়কে বোঝানো হয়েছে। রোজেনস্টেইনের মতে তিনটি ধাপ নেওয়া হলে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।



🌸বিগ পুসের পদ্ধতি🌸


বিগ পুসের পদ্ধতি (Process of Big push ) : বিগ পুসের পদ্ধতি অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য আধুনিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলেছে। শিল্পে উতপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে, যা বিগ পুসের পদ্ধতি। নামে পরিচিত, সেগুলি নিম্নরূপ-


১। শ্রমের সাথে উৎপাদনের সম্পর্ক (Relation between labour and production): উন্নয়নশীল দেশে শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্র থাকে। এই ক্ষুদ্র শিল্পগুলির উৎপাদন এতটাই কম যে, যে কোনো একটি শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। এই শিল্প ক্ষেত্রগুলি সাধারণত চিরাচরিত পদ্ধতি (traditional method) ব্যবহার করে তবে এর মধ্যে কোনও কোনও শিল্প আধুনিক পদ্ধতি (modern method) গ্রহণ করায় তাদের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে।


সাধারণ শিল্পক্ষেত্রগুলিতে নিয়োজিত শ্রমিক অনুপাতে উৎপাদন কম ও আধুনিক শিল্পগুলিতে নিয়োজিত শ্রমিক অনুপাতে উৎপাদন বেশি। সাধারণ চিরাচরিত শিল্পগুলিতে শ্রমের সাথে উৎপাদনের সম্পর্ক সমানুপাতিক। সাধারণত শ্রম শূন্য হলে উৎপাদন শূন্য হয়। তবে আধুনিক শিল্পে শ্রম কখনো শূন্য হয় না, কারণ আধুনিক শিল্প ব্যবস্থায় ন্যূনতম শ্রমিক শিল্পের প্রশাসনিক কর্মের (administrative works) জন্য নিযুক্ত রাখতে হবে।


অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিগ পুস তত্ত্ব।। পদ্ধতি।। বৈশিষ্ট্য ।। সমালোচনা।। Rural Development



চিত্রে × অক্ষে মজুরি ও y অক্ষে উৎপাদন দেখানো হয়েছে। T উৎপাদনের চিরাচরিত ক্ষেত্র (Traditional sector production function) এবং M উৎপাদনের আধুনিক ক্ষেত্র (Modern sector production function)। উৎপাদনের চিরাচরিত ক্ষেত্রের তুলনায় উৎপাদনের আধুনিক ক্ষেত্রে অনেক কম মজুরি তথা শ্রম ব্যাবহারের মাধ্যমে উৎপাদন অনেক বেশি।

চিরাচরিত ক্ষেত্রে শ্রম শূন্য হলে উৎপাদন শূন্য হয়, তবে উৎপাদনের আধুনিক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্মের (administrative works) জন্য কিছু পরিমাণ শ্রম নিযুক্ত রাখতে হয়।


২। মজুরির সাথে উৎপাদনের সম্পর্ক (Relation between wage and production):

বাজারে দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে চিরাচরিত শিল্পগুলির উৎপাদন বাড়াবে, তবে এর জন্য শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। w :১ শিল্পগুলির তুলনায় w ২ শিল্পের উৎপাদন বেশি, কারণ তারা শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করেছে (চিত্র ২.৪)। এইভাবে মজুরি বৃদ্ধি করলে একসময় চিরাচরিত ক্ষেত্র ও আধুনিক শিল্পের মত উৎপাদন বেশি করতে পারবে।

রোজেনস্টেইন এইভাবে বিগ পুস-এর পদ্ধতির বিষয়টিকে বর্ণনা করেছেন।


অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিগ পুস তত্ত্ব।। পদ্ধতি।। বৈশিষ্ট্য ।। সমালোচনা।। Rural Development

🌸বিগ পুস তত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্য🌸


বিগ পুস তত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্য:

ক) বিপুল বিনিয়োগ: বড় ধাক্কা তত্ত্বটি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটির একেবারে গোড়ার দিকে ব্যাপক বিনিয়োগের কথা বলে। এর অনুপস্থিতিতে, বৃদ্ধির প্রক্রিয়া স্বনিত নাও হতে পারে।


(খ) বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ: তত্ত্বটি বৃদ্ধির বিভিন্ন চ্যানেলগুলিতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা কল্পনা করে যাতে প্রতিটি চ্যানেল প্রয়োজনীয় চাহিদা সরবরাহ করে অন্যের বৃদ্ধি বজায় রাখে। সুতরাং, এটি সিস্টেমের ভারসাম্য বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায়।


(গ) পরিকল্পিত শিল্পায়ন: তত্ত্বটি, আঞ্চলিক শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়, যেখানে কৃষিক্ষেত্রই হল প্রধান ক্ষেত্র এবং যা পশ্চাৎপদ এবং দারিদ্রতায় আবদ্ধিত সেখানে শিল্পায়নের দিকে এক বড় ধাক্কা এই সিস্টেমটিকে সাশ্রয়ী ভিত্তিতে স্থাপন করবে এবং কৃষিক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা বন্ধ করে দেবে বলে আশা করা হয়।


সমালোচনা

সমালোচনা (Criticisms ) :

প্রাথমিকভাবে অনুন্নত দেশগুলিকে শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার ভিত্তিতে এই তত্ত্বকে হেলা মাইন্ট এবং সেলসো ফুর্তাদো সমালোচনা করেছেন । কয়েকটি বড় সমালোচনা নিম্নরূপ:


ক) বাস্তবায়নের অসুবিধা: শিল্পায়ন বাস্তবায়নের সময় প্রকল্পগুলির সম্পাদন পরিকল্পনা প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে, বিচ্যুতি হতে পারে, বিচ্যুতিগুলির সংশোধনী করার সময় মূল পরিকল্পনা অপ্রত্যাশিত বা অনিবার্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। হেলা মাইন্ট লক্ষ্য করেছেন যে বিকাশের প্রক্রিয়াতে জড়িত বিভিন্ন বিভাগ এবং সংস্থাগুলিকে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা এবং পরিকল্পনাগুলির মূল্যায়ন ও ক্রমাগত সংশোধন করা দরকার। এটি উন্নয়নশীল দেশগুলির সরকারগুলির জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ।


খ) গ্রহণযোগ্যতার অভাবঃ উন্নয়নশীল দেশে স্বল্পমেয়াদী বাধা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক সমস্যা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রতিযোগিতা হ্রাস এবং প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে শিল্পায়নের কর্মসূচির বাস্তবায়ন সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে।


গ) ঐতিহাসিক অসতর্কতা: যখন গত দুই শতাব্দীতে দেশগুলির ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে, কোনও শিল্পের বিশাল শিল্পায়ন কর্মসূচি উন্নয়নের কোনও প্রমাণ প্রদর্শন করে নি, স্থিতিশীল অর্থনীতিগুলি কেবল সামাজিক মূলধনে বড় আকারের বিনিয়োগ ঘটাতে পারে না।


ঘ) মিশ্র অর্থনীতিতে সমস্যা: একটি মিশ্র অর্থনীতিতে, যেখানে বেসরকারি ও সরকারি খাতের সহাবস্থান রয়েছে, বিকাশের পরিবেশটি সেখানে অনুকূল হতে পারে না। বেসরকারি ও সরকারি বিনিয়োগের মধ্যে প্রতিযোগিতায় সরকার তাদের পরিকল্পনা গোপন রাখে। সরকারি নীতিমালা এবং সাধারণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তথ্যের অভাবের কারণে বেসরকারি খাতের কার্যক্রম একই সাথে বাধাগ্রস্ত হয়।


ঙ) উৎপাদন পদ্ধতির অবহেলা: অর্থনৈতিক উন্নয়নে উৎপাদনশীল কর্ম একটি দেশের সাফল্য নির্ধারণ করে। বড় ধাক্কা মডেলটি মূলত মূলধন গঠন এবং শিল্পায়নের বিষয়টিকে বর্ণনা করেছে। এর জন্য তারা শিল্পের উৎপাদনশীল কৌশলগুলিকে উপেক্ষা করে, যা এই তত্ত্বের একটি দুর্বলতা।


চ) অনুন্নত দেশগুলিতে সম্পদের ঘাটতি: ইউজিনিও গুডিন-এর মতে অনুন্নত দেশগুলিকে দ্রুত বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বড় ধাক্কা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব রয়েছে। এছাড়াও শিল্পে ব্যবহৃত সম্পদের যোগানের ঘাটতি শিল্পায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও এই সমস্যাটি বিদেশি দ্বারা কাটিয়ে উঠতে পারা সম্ভব, তবে সহায়তার প্রবাহটি অস্থিতিশীল থাকলে শিল্পায়ন বন্ধ হতে পারে।


ছ) কৃষি ক্ষেত্রের উপেক্ষা: শিল্পের উপর প্রচুর জোর দিয়ে, মডেলটি কৃষির ক্ষেত্রকে উপেক্ষা করে। শুধুমাত্র শিল্পক্ষেত্রকে জোর দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নতিও সম্ভব নয়, এটি তত্ত্বের একটি ত্রুটি, কারণ বেশিরভাগ অনুন্নত দেশের কৃষিক্ষেত্র বৃহৎ এবং যার শ্রম উদ্বৃত্ত রয়েছে।


জ) মুদ্রাস্ফীতির চাপ: এটি কৃষিক্ষেত্রের অবহেলা থেকে বোঝা যায় 3 শিল্পায়নের সাথে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যদিও সামাজিক বিনিয়োগের জন্য রিটার্ন পেতে সময় লাগবে, তাৎক্ষণিকভাবে চাহিদা বাড়বে ফলে অর্থনীতির উপর মুদ্রাস্ফীতি চাপানো হবে। ব্যয় বৃদ্ধির ফলে প্রকল্পগুলি স্থগিত এবং সাধারণভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়াটি ধীর হয়ে যেতে পারে। মূলধনের


ঝ) অবিচ্ছিন্নতার উপর নির্ভরশীলতা: প্রক্রিয়াগুলির অবিভাজ্যতার উপর ও তত্ত্বের জোর খুব বেশি, কারণ আর্থিকভাবে অর্থনৈতিক হওয়ার জন্য এত হ বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। তত্ত্বে সামাজিক সংস্কার উপেক্ষা করা হয় সামাজিক সংস্কার শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার একটি অংশ হলে উন্নয়ন তীব্র হতে বাধা।


ঞ) এই তত্ত্বে কোনও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয় নি।


👇
🌹অর্থনৈতিক উন্নয়নে লুইস মডেল
🌹কার্ল গুনার মিরডালের 'সার্কুলার এন্ড কিউমুলেটিভ কলেশন তত্ত্ব'

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Section